করোনা ভাইরাস এর এ টু জেড।

বিশ্ব যখন এগিয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তি যখন নতুন নতুন উদ্ভাবনী নিয়ে আসছে পৃথিবীর সামনে ঠিক তখন ই কিছু বিপর্যয় এসে তছনছ করে দেয় মানুষের মনোবল উদ্ভাবনী শক্তিও তখন হার মানে এই সব বিপর্যয়ের কাছে। এ কথা স্বীকার করতে হবে প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতা আছে বিজ্ঞান সবকিছুর ব্যাখ্যা দিতে পারে না। চিকিৎসা বিজ্ঞান আজও মরনব্যাধী ক্যান্সার এইডস এর কাছে জিম্মি। বিগত সময় গুলোতে পৃথিবী বার্ড ফ্লু ,সোয়াইন ফ্লু , ইবোলা , সার্স ভাইরাস এর মোকাবেলা করেছে এবং তা নিরাময় ও করতে সক্ষম করেছে কিন্ত সময়ের সাথে সাথে রোগ ব্যাধিও যেন উন্নত হচ্ছে আরো শক্তিশালী হালনাগাদ ভার্সন হয়ে মানবজাতী কে আক্রমন করছে। তেমন ই এক নতুন আপগ্রেড ভার্সনের ব্যাধি করোনা যার অপর নাম ২০১৯-এনসিওভি।

করোনার উৎপত্তিঃ চীনের উবাই প্রদেশের উহান থেকে এই করোনার উৎপত্তি যার বাহক এক ধরনের সামুদ্রিক প্রানী।গবেষকরা বলছেন, চীনের হর্সশু নামের একপ্রকার বাদুরের সঙ্গে এই ভাইরাসের ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে।

করোনার প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয় নাই তবে বিজ্ঞানীদের আশা তাঁরা মাস খানেকের ভিতর এর প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে সক্ষম হবেন সেক্ষেত্রে প্রশ্ন থেকে যায় এই মাস খানেক সময় কি তাহলে মানব জাতীকে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হবে ? উত্তরঃআতঙ্কিত না বরং আগের চেয়ে বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। করোনা ভাইরাস ইতিমধ্যে চীনসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এর সংক্রমণের ফলে এ পর্যন্ত  ৩৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর সংক্রমিত হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজারের ও অধিক লোক। এ ভাইরাস কিছুদিনের মধ্যে আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে এমন আশংকাও রয়েছে।

যেভাবে ছড়ায়

বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এ ভাইরাসটি একজন মানুষের দেহ থেকে আরেকজন মানুষের দেহে দ্রুত ছড়াতে পারে।

করোনা ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের
দেহে ছড়ায়। সাধারণত ফ্লু বা ঠাণ্ডা লাগার মতো করেই এ ভাইরাস ছড়ায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে

আসুন জেনে নেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত একজন ব্যাক্তির মাঝে কি কি লক্ষন দেখা দেয়।

১) সর্দি
২) গলা ব্যথা
৩) কাশি
৪) মাথা ব্যাথা
৫) জ্বর
৬) হাঁচি
৭) অবসাদ
৮) শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।

এক্ষেত্রে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায় এবং যারা বয়স্ক তাদের এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে এবং নিউমোনিয়া বা শ্বাস নালীর ব্যাধির মতো মারাত্মক অসুস্থতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বেশি থাকে।

মার্স ও সার্স-এর লক্ষণগুলো মারাত্মক হয়, এর কারণে গুরুতর শ্বাসকষ্টের সমস্যা, কিডনিতে সমস্যা, ডায়রিয়া এবং কোনো ব্যক্তির মৃত্যুও হতে পারে বলে জানা গেছে।

হিউম্যান করোনা ভাইরাস নির্ণয় হিউম্যান করোনা ভাইরাস নির্দিষ্ট কয়েকটি পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়, যথা – মলিকিউলার টেস্ট : সক্রিয় সংক্রমণের লক্ষণগুলি খুঁজে বের করতে।
সেরোলজি টেস্ট : এই পরীক্ষাটি নজরদারি করার উদ্দেশ্যে। এটি পূর্ববর্তী সংক্রমণ থেকে অ্যান্টিবডিগুলি সনাক্ত করার জন্য করা হয়, যা একজন ব্যক্তির ভাইরাসের ধরন প্রকাশিত করে।

হিউম্যান করোনা ভাইরাস চিকিৎসা এর সঠিক চিকিৎসা এখনো আবিষ্কার করা হয়নি। বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিন নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। তবে, অনেকগুলো সহায়ক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং ওষুধ রয়েছে যেগুলো এর হালকা থেকে মাঝারি উপসর্গগুলির চিকিৎসা করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ব্যথা ও জ্বরের চিকিৎসার জন্য ওষুধ বা গলা ব্যথা নিরাময়ের জন্য গরম পানি, ইত্যাদি।

যদিও বাংলাদেশে এখনো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হবার খবর পাওয়া যায় নি তবুও যদি কারো মাঝে উপরোক্ত লক্ষন গুলো দেখা দেয় তবে অবশ্যই ডক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

আসুন দেখে নেই কিভাবে আমরা এই এই ব্যাধি থেকে নিরাপদ থাকতে পারি

১) হাঁচি বা কাশির পরে হাত ধুয়ে নিন।
২) কাশি বা হাঁচির আগে মুখ ঢেকে নিন।
৩) আপনার যদি মনে হয় যে আপনি সংক্রামিত, তাহলে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলুন।
৪) রান্না না করা গোশত ও ডিম খাওয়া এড়ান। ]
৫) নিজেকে সারাক্ষণ হাইড্রেট রাখুন।
৬) লক্ষণগুলো দেখা দেয়া মাত্রই ওষুধ খান এবং পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে দেবেন না।
৭) ধোঁয়াটে এলাকা বা ধূমপান করা এড়িয়ে চলুন।
৮) যথাযথ বিশ্রাম নিন।
৯) ভিড় থেকে দূরে থাকুন।

সর্বশেষ সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করুন তিনি যেন অতি দ্রুত এই মহাবিপদ থেকে আমাদের রক্ষা করেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *